সোমবার ● ১২ অক্টোবর ২০২৬
কারাগারে মায়ের সঙ্গে ৩০০ শিশু, বিকল্প পারিবারিক যত্নের সুপারিশ
হোম » আইন-আদালত » কারাগারে মায়ের সঙ্গে ৩০০ শিশু, বিকল্প পারিবারিক যত্নের সুপারিশ
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদন
দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী মায়েদের সঙ্গে প্রায় ৩০০ শিশু অবস্থান করছে। এসব শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিকল্প পারিবারিক যত্ন কিংবা সরকারি শিশু পরিবারে আবাসনের সুপারিশ করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাগারের পরিবেশ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে অনুকূল নয়।
‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শিরোনামে গত ৮ মে একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ এ বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিমতের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ গত জুনে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ১৫ জুন হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের সংখ্যা, বয়স ও সার্বিক অবস্থা জানিয়ে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন কারা মহাপরিদর্শককে।
এর ধারাবাহিকতায় সমাজসেবা অধিদপ্তর রিট আবেদনকারী আইনজীবীর কাছে সমন্বিত প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ সোমবার গণমাধ্যমকে বলেন, চলতি সপ্তাহে প্রতিবেদনটি হাতে পেয়েছেন তিনি। কারাগারে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন শাখার মাধ্যমে শিশুদের তত্ত্বাবধান করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষে ২৫ অক্টোবর নিয়মিত আদালত বসলে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষা ইউনিট ও প্রবেশন শাখার সমন্বিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের বিকাশ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ‘অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি’র মাধ্যমে নিয়মিত খেলনা, পোশাক ও পুষ্টিকর শিশুখাদ্য সরবরাহ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘প্রবেশন অ্যান্ড আফটার কেয়ার সার্ভিসেস’ কার্যক্রম দেশের ৬৪টি জেলা এবং আটটি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতসহ মোট ৭২টি ইউনিটে পরিচালিত হচ্ছে। এ কার্যক্রমের আওতায় নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি’ কাজ করে।
কারাগারে থাকা শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় প্রতিবেদনে দুটি বিকল্পের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, নির্দিষ্ট বয়স বা সময়সীমা শেষে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় নিরাপদ নিকটাত্মীয়ের কাছে বিকল্প পারিবারিক যত্নের আওতায় পুনর্বাসন করা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, নিকটাত্মীয়ের কাছে পুনর্বাসনের সুযোগ না থাকলে কিংবা সেখানে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরকারি শিশু পরিবার বা উপযুক্ত নিরাপদ আবাসনকেন্দ্রে রেখে তার লালন-পালন ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৫৩:৪২ ● ২৪ বার পঠিত
