বুধবার ● ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিদ্যালয়ে ছাগল ঢোকাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষককে হুমকি, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
হোম » পিরোজপুর » বিদ্যালয়ে ছাগল ঢোকাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষককে হুমকি, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের বাটনাতলা ইএসপি ইনস্টিটিউশন বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে শ্রেণিকক্ষে ছাগল ঢোকাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষককে মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লিটন শেখ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত লিটন শেখ গুয়ারেখা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনার বিচার ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিদ্যালয় মাঠে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল সুতার অভিযোগ করেন, গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্লাস চলাকালে কয়েকটি ছাগল শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ে। ছাগলগুলো প্রায়ই শ্রেণিকক্ষে ঢুকে মলমূত্র ত্যাগ করায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হয়। ওই দিন শিক্ষার্থীরা ছাগলগুলো বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে শিক্ষার্থীরা ছাগলগুলো স্থানীয় ফুলতলা এলাকার একটি খোয়াড়ে দিয়ে আসে।
প্রধান শিক্ষক আরও জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য বিএনপির স্থানীয় নেতাদের জানানো হয়। উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও ঘটনার রাতে লিটন শেখ তাঁকে মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে লিটন শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়টি তাঁর বাড়ির পাশে হওয়ায় আকস্মিকভাবে তাঁর পালিত পাঁচটি ছাগল বিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ছাগলগুলো প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে একটি খোয়াড়ে দিয়ে আসে। এর পর তিনি সেখান থেকে ছাগলগুলো ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। তাঁর দাবি, বিদ্যালয় চলাকালে দপ্তরির মাধ্যমে ছাগলগুলো বাইরে বের করে দেওয়া যেত। কিন্তু তা না করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে দূরে নিয়ে যাওয়ায় তাদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে বললে তিনি উল্টো তাঁকে শাসিয়েছেন বলেও দাবি করেন লিটন শেখ।
গুয়ারেখা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘স্কুলে ছাগল ঢোকাকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। দুই পক্ষকে ডেকেছি, তাদের বক্তব্য শুনে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তার করার কোনো সুযোগ নেই।’
নেছারাবাদ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
বাংলাদেশ সময়: ২২:৩৬:২৮ ● ২৩ বার পঠিত
