বুধবার ● ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাউফলে নতুন পরীক্ষা কেন্দ্রের আবেদনে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ
হোম » লিড নিউজ » বাউফলে নতুন পরীক্ষা কেন্দ্রের আবেদনে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর বাউফলে নতুন এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের আবেদনে নীতিমালা লঙ্ঘন, তথ্য গোপন এবং অনুমতি ছাড়া অন্য বিদ্যালয়ের নাম ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি শিরিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগটি কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ হারুনূর রশীদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপিত হয়। এত দিন কেন্দ্রটির সহযোগী কেন্দ্র হিসেবে কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ব্যবহৃত হতো। তবে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ব্যয় কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড সহযোগী কেন্দ্র বাতিল করে। পরে কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মূল কেন্দ্রে সাতটি বিদ্যালয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
গত ১২ আগস্ট কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য আবেদন করেন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ হারুনূর রশীদ। চলতি মাসের ৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালেহ আহমেদ সুপারিশসহ আবেদনটি বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠান।
ফেরদৌসি শিরিনের অভিযোগ, কেন্দ্র স্থাপনের আবেদনে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা অনুমতি ছাড়াই আবেদনপত্রে ওই বিদ্যালয়ের নাম যুক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি তাঁর।
অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, কেন্দ্র স্থাপনের নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণিতে কমপক্ষে ৫০০ শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট শ্রেণিতে অন্তত ১০০ শিক্ষার্থী থাকতে হয়। তাদের দাবি, কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ৪০০ জনের কম এবং দশম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী প্রায় ৮০ জন। আবেদনপত্রে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির প্রতিস্বাক্ষরও নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনে সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দিতে আগ্রহী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা। অভিযোগকারীদের দাবি, এতসংখ্যক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বিদ্যালয়টিতে নেই।
কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি শিরিন বলেন, “২০১২ সাল থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় সুষ্ঠু পরিবেশে আমাদের কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ওই আবেদনে কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও সেখানে পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাকে না জানিয়ে বিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করা বেআইনি। এর বিচার চেয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।”
অভিযোগ অস্বীকার করে কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ হারুনূর রশীদ বলেন, “যথাযথ নিয়ম মেনেই কেন্দ্রের জন্য আবেদন করেছি। অধিকাংশ বিদ্যালয় আমাদের সঙ্গে একমত। কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম দিয়েছি, তবে তারা তো স্বাক্ষর করেনি। এতে তাদের সমস্যার কিছু নেই।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালেহ আহমেদ বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, “কেন্দ্রের জন্য আবেদন করতেই পারে। আমরা সব বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
বাংলাদেশ সময়: ২১:৩২:৫৭ ● ২৫ বার পঠিত
