মঙ্গলবার ● ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবে গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

হোম » প্রবাস » সৌদি আরবে গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
মঙ্গলবার ● ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সৌদি আরবে বাংলাদেশিকে হত্যা ‘মা গো, মা গো চিৎকার’, এরপর কেটে যায় কল

সাগরকন্যা প্রবাস ডেস্ক

সৌদি আরবের তায়েফ শহরে গুলিতে মো. কামরুল জামান (৩৭) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে একটি বিপণিবিতানে এ ঘটনা ঘটে বলে নিহতের পরিবার ও সৌদি আরবে থাকা স্বজনদের বরাতে জানা গেছে। তবে কী কারণে তাঁকে গুলি করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।


নিহত কামরুল জামানের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামে। তিনি বিবাহিত এবং দুই ছেলে সন্তানের জনক। তাঁর স্ত্রী হালিমা বেগম ও দুই সন্তান গ্রামের বাড়িতে থাকেন।


পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার ভোরে স্ত্রী হালিমা বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন কামরুল। এ সময় মুঠোফোনের অপর প্রান্ত থেকে স্ত্রী সর্বশেষ স্বামীর ‘মা গো, মা গো’ চিৎকার শুনতে পান। এরপর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।


সৌদি আরবে থাকা স্বজনদের বরাতে পরিবারের সদস্যরা জানান, মুঠোফোনে কথা বলার সময় এক ব্যক্তি কামরুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি দৌড়ে একটি বিপণিবিতানে ঢুকে পড়েন। পরে অস্ত্রধারী ব্যক্তি সেখানে ঢুকে তাঁকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর হামলাকারী নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন বলে স্বজনরা জানতে পেরেছেন।


নিহতের চাচাতো ভাই মো. সোলেমান গণমাধ্যমকে বলেন, কামরুল তায়েফ শহরের একটি বিপণিবিতানে চাকরি করতেন। রোববার ভোরে ডিউটি শেষে বিপণিবিতানের সামনে দাঁড়িয়ে স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ এক সৌদি তরুণ তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে কামরুল বিপণিবিতানের ভেতরে ঢুকে পড়লে হামলাকারী সেখানে ঢুকে তাঁকে তিনটি গুলি করেন। ঘটনাস্থলেই কামরুলের মৃত্যু হয় বলে তিনি শুনেছেন।


তিনি বলেন, পরে ওই সৌদি তরুণও নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। তবে কী কারণে কামরুলকে গুলি করা হয়েছে, তা এখনো জানা সম্ভব হয়নি।


এলাকাবাসী জানান, জীবিকার সন্ধানে আড়াই বছর আগে সৌদি আরবে যান কামরুল। কৃষক পরিবারের সন্তান কামরুল ধারদেনা করে বিদেশে গিয়েছিলেন। এখনো তাঁর সব দেনা পরিশোধ হয়নি। এর মধ্যেই তাঁর মৃত্যুর খবরে বাড়িতে স্বজনদের আহাজারিতে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।


কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবু নাসের চৌধুরী বলেন, কৃষক বাবার সন্তান কামরুল জীবিকার তাগিদে ধারদেনা করে আড়াই বছর আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে।


এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কায়েসুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি সম্পর্কে জেনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই।

বাংলাদেশ সময়: ৭:৫৯:২৭ ● ৭৫ বার পঠিত