শনিবার ● ৮ আগস্ট ২০২৬
গলাচিপায় সাপের কামড়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু, অ্যান্টিভেনম না দেওয়ার অভিযোগ
হোম » পটুয়াখালী » গলাচিপায় সাপের কামড়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু, অ্যান্টিভেনম না দেওয়ার অভিযোগ
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর গলাচিপায় সাপের কামড়ে জাকির মৃধা (৪৫) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সাপের কামড়ের পর তাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। নিহতের বড় ভাই ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল অদুদ মৃধার অভিযোগ, সেখানে অ্যান্টিভেনম ও প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে তাকে পটুয়াখালীতে রেফার করা হয়। পরে পটুয়াখালী নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত জাকির মৃধা গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মৃধা বাড়ির মো. ফজলুল করিম মৃধার ছেলে। তিনি স্থানীয় বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে জাকির মৃধা নিজ ঘরের খাটের ওপর বসে পা ঝুলিয়ে বাদাম খাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ একটি সাপ তার ডান পায়ে কামড় দেয়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আব্দুল অদুদ মৃধা বলেন, ‘একটি অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন দিলে হয়তো রোগীটি মারা যেত না। কর্তব্যরত চিকিৎসক কেন ইনজেকশন ও প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে রোগীকে পটুয়াখালী রেফার করলেন, তা আমার জানা নেই। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’
তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে পটুয়াখালীতে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পর পথেই জাকির মৃধার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম থাকার পরও কেন তা প্রয়োগ করা হয়নি, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। সময়মতো অ্যান্টিভেনম দেওয়া হলে জাকির মৃধাকে বাঁচানো সম্ভব হতো কি না, তা-ও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল নাঈম তানহা বলেন, রোগীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার রক্তচাপ ও হার্ট রেট অনেক বেশি ছিল। এ কারণে কার্ডিয়াক সমস্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে অ্যান্টিভেনম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর কোনো ধরনের জটিলতা দেখা দিলে তা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসুবিধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই। বিশেষ করে আইসিইউ সাপোর্টের ব্যবস্থা নেই। তাই রোগীর স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা ও তাদের সম্মতিতে অক্সিজেন দিয়ে তাকে পটুয়াখালীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়।
গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবা উদ্দিন বলেন, ‘আমি কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, রোগীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। এ কারণে অ্যান্টিভেনম দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালীতে রেফার করা হয়েছে।’
চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত সঠিক কি না এবং ওই রোগীর ক্ষেত্রে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা ছিল কি না, তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫৫:২৩ ● ৪৪ বার পঠিত
