শুক্রবার ● ১৭ জুলাই ২০২৬

পাথরঘাটায় নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে মানববন্ধন

হোম » বরগুনা » পাথরঘাটায় নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে মানববন্ধন
শুক্রবার ● ১৭ জুলাই ২০২৬


 

পাথরঘাটায় নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে মানববন্ধন

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে উপকূলীয় জনপদকে রক্ষায় টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাঁচচুঙ্গা এলাকায় ভাঙা বেড়িবাঁধের ওপর আয়োজিত এ কর্মসূচিতে কয়েক শতাধিক গ্রামবাসী অংশ নেন।

 

‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’, পাথরঘাটা উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন এবং সুন্দরবন জনতা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘ত্রাণ নয়, স্থায়ী সমাধান চাই’ স্লোগানে দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

 

বক্তারা বলেন, সদর ইউনিয়নের জিনতলা থেকে বাদুরতলা পর্যন্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে পদ্মা ভাঙন এলাকা ও রুহিতা গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, ২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডারের পর ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হয়নি। বিভিন্ন সময়ে বালুভর্তি বস্তা ফেলে অস্থায়ীভাবে বেড়িবাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয়নি। সামান্য জোয়ার বা দুর্যোগেই বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে ফসলের মাঠ, বসতভিটা ও জনজীবনের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।

 

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সগির আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান সাহেদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি মো. মাহাবুর রহমান সুমন মোল্লা, সমাজসেবক নজরুল ইসলাম ফারুক, স্থানীয় ইউপি সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

 

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সগির আলম বলেন, ‘আমরা যে বেড়িবাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে আছি, সেটি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে। ইতোমধ্যে ইউনিয়নের চার থেকে পাঁচটি স্থান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা স্থানীয় মানুষের জন্য বড় হুমকি।’

 

মো. মাহাবুর রহমান সুমন মোল্লা বলেন, ‘শুধু মাটি বা বালুর বস্তা দিয়ে সাময়িক সমাধান নয়, ব্লক বসিয়ে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। অন্যথায় প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অল্প সময়ের মধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।’

 

বদিউজ্জামান সাহেদ বলেন, ‘বিষখালী, বলেশ্বর ও বঙ্গোপসাগরের মোহনার এ উপকূলীয় অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে রয়েছে। এখানকার মানুষ প্রতিটি জোয়ারে বসতভিটা হারানোর শঙ্কা নিয়ে জীবনযাপন করছেন।’

 

মানববন্ধন থেকে বক্তারা দ্রুত টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:২৪:০৪ ● ২৫ বার পঠিত