
সাগরকন্যা প্রতিবেদন, ভোলা
আগামী প্রজন্মের জন্য বিশুদ্ধ বাতাস নিশ্চিত করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় ৩৪ বছর ধরে নিজ উদ্যোগে গাছ লাগিয়ে আসছেন ভোলার চরফ্যাশনের মসজিদের ইমাম রেজাউল কিবরিয়া বাবুল (৬০)। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি স্থাপন এবং সরকারি সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আলোচনায় আসা এই ইমামের কর্মকাণ্ডের খবর পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাবুল।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর ‘৩৪ বছর ধরে নিজ উদ্যোগে গাছ লাগিয়ে গ্রামের চিত্র বদলে দিলেন ইমাম’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, সচিবালয়ে তাঁদের প্রায় এক ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত শুনে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাঁকে ধন্যবাদ জানান। এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বাবুলের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নে। তিনি স্থানীয় জনতা বাজার-সংলগ্ন কালাপানিয়া বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। এই মসজিদে দুই যুগ ধরে ইমামতি করছেন তিনি। সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান বাবুল মাস্টার তোফায়েল আহমেদ সেক্রেটারির আট ছেলে-মেয়ের মধ্যে চতুর্থ। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ইহকাল ও পরকালে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন যুগ ধরে সরকারি সড়কের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে আসছেন বাবুল। তাঁর উদ্যোগে চরফ্যাশনের ওমরপুর ইউনিয়নের বাউল সড়কের দুই পাশের চিত্র বদলে গেছে।
১৯৯৩-৯৪ সালে আট লাখ টাকায় পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে স্থানীয় ভূইয়ারহাটে নার্সারি স্থাপনের মধ্য দিয়ে তাঁর এই উদ্যোগের শুরু। সে সময় মাইকে ঘোষণা দিয়ে মানুষকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করতেন তিনি। পাশাপাশি মানুষকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।
এরপর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার ফলদ, ঔষধি ও অন্যান্য প্রজাতির গাছের চারা লাগিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে শুধু তালগাছের বীজ রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার। তবে নানা কারণে লাগানো সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। ওমরপুর ইউনিয়নের বাউল সড়ক ছাড়াও আরও চারটি সড়কে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এই ইমাম।