ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে
আমতলীতে বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভরসা বাঁশ আর কলাগাছেই
হোমপেজ » বরগুনা জেলা » আমতলীতে বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভরসা বাঁশ আর কলাগাছেই


মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

এই ছবিটি প্রতীকী

আমতলী সাগরকন্যা প্রতিনিধি ॥
বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন শহীদ মিনার নেই। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ৬৫ বছর পার হলেও প্রতিষ্ঠানগুলোয় শহীদ মিনার নির্মিত না হওয়ায় ভাষা শহীদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা কলাগাছ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে শহীদ দিবস পালন করছে। অযত্ন অবহেলায় রয়েছে নির্মিত শহীদ মিনারগুলো।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুই উপজেলায় ৩২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে আমতলী ১৫২টি  সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৩টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২১টি দাখিল মাদ্রাসা ও ১টি আলিম মাদ্রাসা, ৪টি ফাজিল মাদ্রাসা, ৫টি কলেজ এবং তালতলীতে ৭৭টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১২টি দাখিল মাদ্রাসা ও ৩টি কলেজে রয়েছে।
এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে কোন শহীদ মিনার নেই। শিক্ষার্থীরা কলাগাছ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে শহীদ দিবস পালন করে আসছে। এছাড়া যেগুলো রয়েছে সেগুলো অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে। এগুলো সংস্কারে কোন উদ্যোগ নেই। প্রতি বছর ভাষা শহীদ দিবসের দু’এক দিন পূর্বে আমতলী কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারসহ অন্যান্য শহীদ মিনার ঘষা মাজা করে থাকে। দিবস শেষ হয়ে গেলে কেউ ওই মিনারের খবর রাখে না।

মঙ্গলবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আমতলী সরকারী একে পাইলট হাই স্কুল, এমইউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বন্দর হোসাইনিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খেকুয়ানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গাজীপুর সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা, গাজীপুর বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পচাঁকোড়ালিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কড়াইবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসাসহ অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই।
আমতলী সরকারী একে পাইলট হাই স্কুলের শিক্ষার্থী আনতারা ইসলাম আনিশা, হামিমা জামান মাশনু জানান, বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন জানাতে পারছি না।
তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুর রহমান সিয়াম, তানজিলা, সাদনান সাকিব ও ইমরান জানান, শহীদ মিনার না থাকায় কলাগাছ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী মিনার নির্মাণ করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করতে হয়।
আমতলী এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অন্দ্রিলা কুন্ডু ও সেঁজুতি জানায়, বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই, কলেজের শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিতে হয়। তারা সরকারের কাছে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবী জানিয়েছে।
আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মজিবুর রহমান সাগরকন্যাকে বলেন, যে সকল বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই, সে সকল বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে।
আমতলী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আকমল হোসেন খান বলেন, আমি নতুন এসেছি, কোন বিদ্যালয় শহীদ মিনার আছে বা নাই তা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সরোয়ার হোসেন বলেন, ভাষা শহীদদের পরিচয় জানতে ও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা আবশ্যক। জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

এমএইচএকে/এনইউবি


বাংলাদেশ সময়: ১০:৫৭:৩২ পিএম | ১০১ বার পঠিত


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

পুরনো খবর দেখতে:



---

আরো পড়ুন...