রায়ের কপি পাওয়া যায়নি, আপিল করতে পারেননি খালেদার আইনজীবীরা
হোমপেজ » আইন-আদালত » রায়ের কপি পাওয়া যায়নি, আপিল করতে পারেননি খালেদার আইনজীবীরা


মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া

সাগরকন্যা ডেস্ক ॥
খালেদা জিয়ার সই করার জন্য কারাগারে ওকালতনামা পৌঁছে দিলেও জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের কপি না পাওয়ায় মঙ্গলবারও (১৩ ফেব্রুয়ারি) আপিল করতে পারেননি তার আইনজীবীরা। বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্যতম আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেছেন, রায়ের কপি পেলে তারা বুধবার আপিল জমা দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

বিদেশ থেকে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের নামে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী পুরানো ঢাকার কারাগারে রাখা হয়েছে। তার সঙ্গে দেখা করার জন্য মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে সানাউল্লাহ মিয়াসহ চার আইনজীবী কারাগারের সামনে যান। পরে সেখান থেকে তারা যান কারা অধিদপ্তরে। সে সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, কিছু কাগজপত্রে ম্যাডামের সই লাগবে। এ কাজেই এসেছি। বেরিয়ে এসে আপনাদের সঙ্গে কথা বলব। প্রায় ৪৫ মিনিট পর তারা কারা অধিদপ্তর থেকে কারাগারের মূল ফটকে এসে অপেক্ষা করেতে থাকেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি না মেলায় বেলা ৩টার দিকে ফিরে যান।

সানাউল্লাহ মিয়া সে সময় সাংবাদিকদের বলেন, আগামীকাল (বুধবার) এ মামলার রায়ের কপি পেলে আমরা জামিনের জন্য আবেদন করব। এই আইনজীবী জানান, তারা কিছু ওকালতনামা এনেছিলেন। খালেদা জিয়ার সইয়ের জন্য সেগুলো কারা কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন তারা। কারা কর্তৃপক্ষ এগুলো গ্রহণ করেছে। তারা বলেছে, এগুলোতে স্বাক্ষর নিয়ে পরে আমাদের ফেরত দেবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, খালেদা জিয়াকে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানোর যে খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসেছে তা সঠিক নয়। আমরা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে জানতে চেয়েছি, বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে খবর এসেছে-তা আসলে ঠিক কিনা। তারা আমাদের জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে সে রকম কোনো অর্ডার আসেনি। সামনে গ্যাটকো, বড়পুকুরিয়াসহ তিনটি মামলায় খালেদা জিয়ার হাজিরার তারিখ রয়েছে। তবে এই মামলাগুলোতে খালেদা জিয়াকে নিজে উপস্থিত থাকতে হয় না। আইনজীবীর মাধ্যমেই তিনি হাজিরা দিতে পারেন বলে সানাউল্লাহ মিয়া জানান। কারাগারের একজন কর্মকর্তা বলেন, খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তিনটি ওকালত নামা নিয়ে এসেছিলেন। সেগুলো গ্রহণ করে ‘ভেতরে’ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিশেষ আদালতের দেওয়া রায়ের অনুলিপির প্রিন্ট সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে কোথাও ভুলভ্রান্তি হচ্ছে কি না, তা এখন দেখা হচ্ছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মূল রায় ৬২০ পৃষ্ঠা হলেও রায়ের অনুলিপি হবে ছয় হাজার পৃষ্ঠার বেশি। ওই অনুলিপি হাতে আসার পরই জামিনের জন্য আপিল করতে পারবেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বৃহস্পতিবার থেকে কারাগারে আছেন। ওই দিনই ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া ওই মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদন্ড দেন আদালত।

খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ বলেন, আদালতের রায়, এজাহার, সাক্ষী, জেরা, অভিযোগপত্র, ফরোয়ার্ডিংসহ সব কাগজ মিলে ছয় হাজার পৃষ্ঠার ওপরে অনুলিপি হবে। ওই অনুলিপি কোর্ট ফোলিওতে প্রিন্ট হয়ে গেছে। জয়নুল আবেদীন মেজবাহ জানান, পাঁচ থেকে ছয়জন অনুলিপিকারক এ নিয়ে কাজ করছেন। কোনো ভুলভ্রান্তি হচ্ছে কি না, তাঁরা তা মিলিয়ে দেখছেন। এ নিয়ে তাঁরা বেশ ব্যস্ত। কথা বলার ফুরসত পাচ্ছেন না তাঁরা।

জয়নুল আবেদীন মেজবাহ বলেন, কারেকশনের পরে প্রধান অনুলিপিকারক চূড়ান্তভাবে মিলিয়ে দেখবেন কোনো ভুল হলো কি না। এর পরে তিনি সেই অনুলিপিতে স্বাক্ষর করবেন। তাঁর স্বাক্ষরের পরে ওই আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বাক্ষর করবেন। এর পরে অনুলিপিতে কোর্ট ফি লাগানো হবে। আর সব কাজ সম্পন্ন হলেই এ মামলার রায়ের কপি পাওয়া যাবে। ওই কপি দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করবেন বিএনপির চেয়ারপারসন। ওই আপিলে জামিনের আবেদন করা হবে। জামিন মঞ্জুর করা হলে ওই আদেশ ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে পাঠানো হবে। এর পরে আদালতে আবার জামিননামা দাখিলের অনুমতি চাইবেন আইনজীবীরা। বিচারক ওই জামিননামা দেওয়ার অনুমতি দিলে খালেদা জিয়ার পক্ষে মুচলেকা (বন্ড) দিতে হবে। তখন একটি রিলিজ আদেশ কারাগারে পাঠানো হবে। ওই রিলিজ আদেশ পাওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবেন, যদি অন্য মামলায় গ্রেফতার না হন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদন্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সাজা ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। রায় ঘোষণার তিন দিন পর গত রোববার থেকে আদালতের নির্দেশে তাঁকে ডিভিশন বা প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়।

এফএন/কেএস


বাংলাদেশ সময়: ০২:১৮:২২ পিএম | ৮৬ বার পঠিত


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

পুরনো খবর দেখতে:



---

আরো পড়ুন...