প্রত্যাবাসন চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমারের সাড়া পায়নি বাংলাদেশ: ভ্যাটিকানে প্রধানমন্ত্রী
হোমপেজ » জাতীয় » প্রত্যাবাসন চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমারের সাড়া পায়নি বাংলাদেশ: ভ্যাটিকানে প্রধানমন্ত্রী


মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সাগরকন্যা ডেস্ক ॥
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার ভ্যাটিকান সিটির সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েট্রো প্যারোলিনের সঙ্গে এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, সমস্যার মূল রয়েছে মিয়ানমারে, এর সমাধানও বের করতে হবে মিয়ানমারকেই। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক এবং ভ্যাটিকান সিটিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান এসব কথা সাংবাদিকদের জানান।

শামীম আহসান জানান, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে ভ্যাটিকান সিটির সেক্রেটারি অব স্টেটকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে সমস্যার সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এর সমাধানও রয়েছে সেখানে। তাই চুক্তি বাস্তবায়নও করতে হবে মিয়ানমারকে। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা এখনো মিয়ানমারের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাইনি। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গারা যাতে তাদের স্বদেশ ভূমিতে ফিরে যেতে উৎসাহিত হয়, মিয়ানমারকে সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এ দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারকে নিতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি গত বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর পেশ করা পাঁচ দফা প্রস্তাবের কথা আবার উল্লেখ করেন।

তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার এখনো কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন করেনি। বৈঠকে ভ্যাটিকান সিটির সেক্রেটারি অব স্টেট সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর লড়াইয়ের প্রশংসা করেন। এদিকে, রোম সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সোমবার সন্ধ্যায় তার হোটেলে সাক্ষাৎ করেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিজলি। এসময় জাতিসংঘের সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের জরুরি সহায়তা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এ বিষয়ে দাতাদের আগ্রহ যে কমে আসছে, সে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানান তিনি । তবে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) আগের মতই পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। পরে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বৈঠকের বিভিন্ন তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ডব্লিউএফপি রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা দিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে। গত ছয় মাসে তারা আট কোটি ডলারের খাদ্যসামগ্রী বণ্টন করেছে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলোতে। ডব্লিউএফপির মূল্যায়ন হল, প্রতি মাসে আড়াই থেকে তিন কোটি ডলারের খাদ্যের দরকার তাদের (রোহিঙ্গাদের)। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক দাতাদের আগ্রহটা যে কমে আসছে সে বিষয়ে উনি (ডেভিড বিজলি) প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন। গত বছর ২৫ অগাস্ট রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে শুরু থেকেই বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। রোহিঙ্গাদের নিজেদের আবাসভূমিতে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একটি চুক্তি করলেও সব প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এখনও শুরু করা যায়নি। আর চুক্তিতে দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করায় অন্তত ওই সময় পর্যন্ত কক্সবাজারের আশ্রয় শিবিরগুলোতে জরুরি সহায়তা চালিয়ে যেতে হবে।

শহীদুল হক বলেন, তিনি (ডেভিড বিজলি) বলেছেন, ইউএন সিস্টেমের মধ্যে থেকে নিয়মিত এটাকে জিইয়ে রাখতে তারা চেষ্টা করছেন এবং এটা বেশ কঠিন হচ্ছে। সামনে বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা আরও বাড়তে পারে বলেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেন নির্বাহী পরিচালক। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের সরিয়ে সাময়িকভাবে ভাসান চরে রাখার উদ্যোগের কথা তাকে বলেন। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছিলেন শেখ হাসিনা। এর বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন নিয়মিত চাপ প্রয়োগ করে, সে বিষয়েও তিনি বলেন ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালককে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ডব্লিউএফপির ক্যাম্পেইনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন নির্বাহী পরিচালক। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে এ বিষয়ে দুবার তিনি ব্রিফ করেছেন। বিজলি বলেন, রাখাইনে রোহিঙ্গারা যে ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছে, সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছেন। ডব্লিউএফপি ২০১৭ থেকে ২০২০ পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে ৩০ কোটি ডলারের ১৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে জানিয়ে শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা নিয়মিত কাজ করবে বলে ডেভিড বিজলি জানিয়েছেন। ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে বৈঠকের পর রোমে বাংলাদেশের অনারারি কনসালদের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ দেখতে অনারারি কনসালদের আহ্বান জানান। ছয়জন অনারারি কনসালের মধ্যে চারজন দায়িত্ব পাওয়ার পর এখনো বাংলাদেশ সফর করেননি। প্রধানমন্ত্রী তাদের বাংলাদেশে যেতে অনুরোধ করেন এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইতালীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করতে বলেন। জাতিসংঘের কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় অংশগ্রহণ ও ভ্যাটিকান সফরে রোববার ইতালি পৌঁছান শেখ হাসিনা। আইএফএডির প্রেসিডেন্ট গিলবার্ট এফ হংবো ও পোপ ফ্রান্সিসের আমন্ত্রণে চার দিনের এই সরকারি সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার সকালে ভ্যাটিকান সফর করে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি রোমে আইএফএডির সদর দপ্তরে গভর্নিং কাউন্সিলের ৪১তম অধিবেশনে যোগ দেন এবং উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। সন্ধ্যায় রোমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক সংবর্ধনা সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সফর শেষে ১৬ ফেব্রুয়ারি তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

এফএন/কেএস


বাংলাদেশ সময়: ১০:০২:৫৮ এএম | ৮৩ বার পঠিত


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

পুরনো খবর দেখতে:



---

আরো পড়ুন...