কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগের নিয়মিত টহলেও
কুয়াকাটা-কলাপাড়ায় বন্ধ হচ্ছেনা জাটকা নিধন
হোমপেজ » কুয়াকাটা » কুয়াকাটা-কলাপাড়ায় বন্ধ হচ্ছেনা জাটকা নিধন


সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

জব্দ করা জাটকা ইলিশ দুঃস্থদের মাঝে বিতরণের আগমুহূর্তে তোলা ছবি—সাগরকন্যা

জাহিদ রিপন, সাগরকন্যা রিপোর্ট ॥
কুয়াকাটা-কলাপাড়ায় কোস্টগার্ড, মৎস্য বিভাগের নিয়মিত চলমান অভিযানের পরও কতিপয় জেলেরা জাটকা নিধন অব্যাহত রয়েছে। অসচেতনতা, পেটের দায় কিংবা মহাজনের দাদনের চাপে জাটকা শিকার করছে বলে দাবী এসব জেলেদের। তবে জেলেদের এমন দাবী মানতে নারাজ মৎস্য বিভাগ এবং কোস্টগার্ড।
জানা গেছে, কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগারসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে প্রতিদিন এক শ্রেণির জেলেরা জাটকা নিধন করছে। এসব জাটকা নিধনে ব্যবহার করছে ছোট ফাঁসের নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল। কোস্টগার্ড এবং মৎস্য অধিদপ্তরের চোখ ফাঁকি দিয়ে শিকার করা জাটকা ইলিশ মাছ স্থানীয় ছোট হাট-বাজারসহ গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করছে। আবার জাটকা শিকারের জন্য জেলে ও ব্যবসায়ীরা দায়ী করছেন একে অপরকে।
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জাটকা শিকার বন্ধসহ প্রজননকালীন ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখার জন্য জেলেদের বিভিন্ন প্রনোদনা দেয়া হচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের নিয়ে উঠান বৈঠক, সেমিানার করা হচ্ছে। এরফলে নদ-নদীর মোহনাসহ সাগরে বাড়ছে ইলিশের প্রাচুর্যতা। তারপরও জেলেদের এভাবে জাটকা আহরনের ফলে ইলিশ মৌসুমে প্রত্যাশিত ইলিশ ধরা না পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও কোস্টগার্ড সদস্যরা উপকূলীয় মোহনার বিভিন্ন নদ-নদীতে নিয়মিত আভিযান পরিচালনা করছে। রবিবার দিনভর সাগর মোহনাসহ রামনাবাদ নদীতে অভিযানকালে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীবাহী লঞ্চ এমএল বরকত থেকে ৩০ মন জাটকা এবং ৬ লক্ষ ১০ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করে। একইদিন কলাপাড়া পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ১০মন জাটকা উদ্ধার করে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর। এসব জাল পায়রা বন্দর এলাকায় পুড়িয়ে ফেলা হয়। জাটকা স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানা, মাদ্রাসাসহ দু:স্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
কোস্টগার্ড রামনাবাদ স্টেশন কমান্ডার মো.দেলোযার হোসেন জানান, প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। চলমান অভিযানে প্রায়শই নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হচ্ছে। এসব জাল পুড়িয়ে ফেলাসহ মাছ মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ দু:স্থদের মাঝে বিলি করা হচ্ছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, সীমিত লোকবল এবং ট্রান্সপোর্ট সমস্যা নিয়েই জাতীয় সম্পদ ইলিশসহ অন্যান্য প্রজাতির মাছ রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জেলেদের সচেতনা বৃদ্ধিতে নিয়মিত সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে।

এনইউবি/এনবি


বাংলাদেশ সময়: ০৪:৩৫:০০ পিএম | ১০৯ বার পঠিত


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

পুরনো খবর দেখতে:



---

আরো পড়ুন...