রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চায় আসিয়ান
হোমপেজ » বিশ্ব » রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চায় আসিয়ান


রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাক্রিশনান

সাগরকন্যা আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চায় দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান।  মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠক থেকে সংকটের স্থায়ী সমাধানের ডাক দেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধ নিয়েও আলোচনা হয়। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। ১৯৬৭ সালে কমিউনিষ্ট বিরোধী জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে আসিয়ান। তবে বিগত দুই দশকে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সমন্বয়ের দিকেই মনোযোগী হয়েছে জোটটি। অনানুষ্ঠানিক আলোচনার পর সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাক্রিশনান বলেন, দশ সদস্যের এই জোটটি গত নভেম্বরে বাংলাদেশ ও মিয়াননমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন চায়। এ ছাড়া ‘সর্বাত্মক ও স্থায়ী সমাধান’ খুঁজে পেতে সংকট ও সংঘাতের গোড়ায় যাওয়ার ওপর জোর দেয় আসিয়ান। তবে এর তড়িৎ কোনও সমাধান নেই বলেও বলে মনে করেন তিনি।
বালাক্রিশনান বলেন, মানবিক পটভূমিতে মিয়ানমার সরকারকে পূর্ণ সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে আসিয়ান। তবে আমরা চূড়ান্তভাবে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সমাধান চাই।
বালক্রিশনান বলেন, কয়েকজন আসিয়ান মন্ত্রী দক্ষিন চীন সাগরে চীনের ভূমি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান। তবে তারা বিরোধপূর্ণ এলাকায় একটি আচরবিধি তৈরি করতে আলোচনা শুরুর জন্য গত বছর উভয়পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ওপর জোর দেন। ওই আলেচানা মার্চে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি।
তিনি বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরের পরিস্থিতি এখন তুলনামুলক ঠান্ডা। এই বছরেই তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি অর্জনের চেষ্টায় দুই পক্ষ বিশ্বাস ও আস্থা পেয়েছে। আর একারণেই খুব শিগগিরই আমরা আলোচনা শুরু করতে পারবো। দুই পক্ষের পারস্পারিক সম্মতিতে আলোচনা শুরুর কথা বললেও বিস্তারিত জানাননি তিনি। বালাক্রিশনান বলেন, একটি কৃত্রিম সময়সীমা মানতে গিয়ে দ্রুতগতিতে কিছু করার চেয়ে বিশ্বাস অর্জন এবং একের পর এক সঠিকভাবে পদক্ষেপ ফেলাটা আরও গুরুত্বপূর্ণ।
সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম মোতায়েনের জন্য দক্ষিণ চীন সাগরে বেশিরভাগ এলাকার দ্বীপ, প্রবালপ্র্রাচীরের দাবি করে থাকে বেইজিং। চীন, তাইওয়ান ছাড়াও আসিয়ানের চার সদস্য-ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন, ভিয়েতনাম ওই নৌপথের বিষয়ে আগ্রহী। এই নৌপথের দুই পাশেই ব্যস্ত আন্তর্জাতিক নৌপথ ও সমুদ্র তলদেশ বিপুল তেল ও গ্যাস রয়েছে বলেও ধারণা করা হয়।
বালাক্রিশনান বলেন, সিঙ্গাপুরের প্রস্তাবিত ‘স্তিতিস্থাপকতা ও উদ্ভাবন’ থিমের ওপর ভিত্তি করেই ৫১ বছরের জোটটির মন্ত্রীরা সমাধানের একটি রাস্তা খুঁজে দেখবেন। তিনি বলেন, জনগনের জীবনযাত্রার মানবৃদ্ধি, সন্ত্রাসবাদ ও সীমান্ত পেরনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম মোকাবেলায় সিঙ্গাপুরের প্রস্তাবিত ‘আসিয়ান স্মার্ট সিটি’ প্রকল্পেও সমর্থন দিয়েছেন মন্ত্রীরা। প্রস্তাবিত ওই শহরে প্রযুক্তিকে ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা এই অঞ্চলের শান্তি ও অগ্রগতির জন্য অবকাঠামো, জনগনের ওপর বিনিয়োগ বাড়িয়ে সংযুক্ত থাকার বিষয়ে সব দেশ সম্মত হয়েছে।


বাংলাদেশ সময়: ০৬:০৮:০১ পিএম | ৩৫ বার পঠিত


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

পুরনো খবর দেখতে:



---

আরো পড়ুন...