দেশের সব অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য আলাদা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ
হোমপেজ » জাতীয় » দেশের সব অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য আলাদা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ


শুক্রবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

দেশের সব অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য আলাদা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ

ঢাকা সাগরকন্যা অফিস॥

সরকার দেশের সব অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য আলাদা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) কাজ শুরু করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডও (পিডিবি) একটি কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। তাছাড়া সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি কোম্পানিও কেন্দ্র স্থাপনের আগ্রহ দেখাচ্ছে। মূলত বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্যই বিদ্যুৎ বিভাগ বিশেষ এই উদ্যোগ নিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, যেসব উদ্যোক্তারা নিজস্ব উদ্যোগে ইপিজেড স্থাপন করছে, তারাও বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করছে। তাছাড়া সারাদেশে শিল্প উদ্যোক্তাদের জায়গা করে দিতে ১৫ বছরে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ করবে সরকার। সব মিলিয়ে প্রায় ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করা হবে। তার মধ্যে সারাদেশের নতুন ৪২টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইপিজেড) বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে আরইবি। সরকারি ৩৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশাপাশি ৯টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলও রয়েছে। সরকার সারাদেশে নতুন যে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে, এই ৪২টি তারই অংশ। আরইবি এলাকায় শিল্প গ্রাহক কম হলেও সরকার নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের কারণে গ্রাহকের সংখ্যা বাড়বে।
সূত্র জানায়, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে শতভাগ শিল্পায়ন হলে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি হতে পারে। তার মধ্যে সরকারি ৩১টি শিল্প পার্কের জন্য ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট এবং বেসরকারি ইপিজেডগুলোর জন্য প্রয়োজন হবে ৫২৭ মেগাওয়াট। বর্তমানে ৪২টি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তার মধ্যে ৯টিতে প্রাথমিকভাবে সংযোগ দিয়েছে আরইবি। সেগুলো হচ্ছে- মীরসরাই, আনোয়ারা, মংলা, বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি পার্ক, এপিআই শিল্পপার্ক, আব্দুল মোনেম, এ কে খান, আকিজ এবং বে অর্থনৈতিক অঞ্চল। তাছাড়া ৬টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বৈদ্যুতিক অবকাঠামো নির্মাণ কাজ চলছে। মীরসরাই, বঙ্গবন্ধু সিটি হাইটেক পার্ক, এপিআই শিল্প পার্ক, শ্রীহট্ট ইপিজেড, নাফ ট্যুরিজম পার্ক ও জামালপুর ইপিজেডে ৩৩ কেভি, ১১ কেভি গ্রিড এবং ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ৪২টি ইপিজেডেই চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পিজিসিবি’র ২২টি ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। তার বাইরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে আরো ১০টি গ্রিড উপকেন্দ্রের ক্ষমতা বাড়ানোরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিদ্যুতের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসও দেবে সরকার। সেজন্য বিগত বছরের শুরুতে ৭টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে গ্যাস সংযোগ দিতে তিতাস গ্যাসের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। অঞ্চলগুলো হচ্ছে- আমান ইকোমিক জোন, আকিজ ইকোনমিক জোন, আরিশা ইকোনমিক জোন, বে-ইকোনমকি জোন, মেঘনা ইকোনমিক জোন, সোনারগাঁ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্থনৈতিক অঞ্চল। তাছাড়া ৫ ফেব্রুয়ারি মীরসরাইয়ের অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদ্যুৎ দিতে চীনের সিনোহাইড্রোর সঙ্গে চুক্তি করে পিডিবি ও আরপিসিএল এর যৌথ কোম্পানি বিআর পাওয়ারজেন। আগামী বছরের জুনের মধ্যে ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটি স্থাপনের কাজ শেষ করা হবে। তার আগে মুন্সীগঞ্জের বেসরকারি একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য আব্দুল মোনেম গ্রুপকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। একইভাবে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকার অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য আলাদা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহম্মদ হোসেইন জানান, অর্থনৈতিক অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে চায় কর্তৃপক্ষ। সেজন্য ওসব বিশেষ অঞ্চলে শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা করলে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে। পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে বেশকিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এফএন/এমআর


বাংলাদেশ সময়: ১০:৩৬:১৫ এএম | ৭৭ বার পঠিত


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

পুরনো খবর দেখতে:



---

আরো পড়ুন...