কাজী সাঈদ’র তিনটি প্রেমের কবিতা
হোমপেজ » সাহিত্য-সংস্কৃতি » কাজী সাঈদ’র তিনটি প্রেমের কবিতা


বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

প্রতীকী ছবি

জ্বলছি তুমিহীন অনলে
============

আজ তোমার আর আমার মাঝে অনেক তফাৎ
দু’জনের অবস্থান দুই মেরুতে
এই দোষে দোষী হয়ে আমাকেই
দাঁড়াতে হবে কাঠগড়ায়-এ আমি জানি।
স্বাভাবিক দৃষ্টিতে আমিই দায় স্বীকার করছি।
তোমার কী ছিল না ত্রুটি আদৌ?

কিন্তু আমি যে তোমার পিতা-মাতার ষড়যন্ত্রের শিকার-
তাও তোমাকে বলতে পারি নি।
তাঁদের পোষা তোতা পাখির মতো
সেই ভদ্র মহিলা আমাকে অভিমানী করেছিল।
আমি শ্বেত বসনে বর বেশে যাচ্ছিলাম
তুমি প্রতিবেশীর জানালায় দাঁড়িয়ে
অবলোকন করেছো নির্বাক দৃষ্টিতে
কাছাকাছি পৌঁছতেই জানালার সার্সি টেনে দিলে
আমার পথ রুদ্ধ হলো না আর।

পড়ন্ত বিকালে পুকুরের ঘাটে
দাঁড়িয়ে দেখেছি আত্মহননের সাজানো অভিনয়।
অভিমানী মন ব্যাকুল হয়নি তখনও
কিন্তু অপেক্ষায় ছিলাম ক্ষাণিকক্ষণ
তুমি আসবে, দৌঁড়ে ছুটে আসবে
অতঃপর তুমি আসলে না।

পিছনপানে তাঁকালাম বার বার
কিসের যেন এক অনিরুদ্ধ টানে
পরিণয় মন্দিরে বাক্যপাঠ শেষে
ধ্রুব সত্যকে নিলাম স্বীকার করে
চলে গেলাম তোমার থেকে যোজন যোজন দূরে।
হয়তো তুমি মূর্ছিত হয়েছিলে জীবন নাট্যের পালাবদলে
হয়তো তোমার বুকে বয়েছিল সাহারার বিষাদ বায়ু
হয়তো তুমি পুড়েছিলে দুঃখ দষ্ট দহনে
হয়তো তুমি ভেসেছিলে স্বপ্ন ভাঙ্গার মহাপ্লাবনে।

যেই তুমি ভর সমাজে লাজ লজ্জা তুচ্ছভেবে
করেছিলে আত্মঘাতীর ছল
সেই তুমি ছুটে আসবে না
তা বিশ্বাসের মর্মমূলে হেনেছে আঘাত।

যদি ছুটে আসতে বিদ্যুৎ বেগে
এমন কিবা এসে যেত?
তবে আজ হতো না দুই মেরুর দুরত্ব।
আজ আমাকে প্রাচুর্যের ষোলকলায় পূর্ণ
করেছে সংসার সঙ্গীনি
তবু আমি আজও জ্বলছি তুমিহীন অনলে।
———–*****————

অশ্রু বাধা মানে না
===========

আজ ছয়টি বছর পর দেখলাম তোমাকে
অন্ধকার রাতে সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়ে থাকা
লাল শাড়ি পরা তোমার ছবিটি
লাল পরির মতো অপলক দৃষ্টিতে
তাকিয়ে আছ আমার দিকে!

কোন কথা বলছ না, আমার কথার জবাব দিচ্ছ না।
আমি কত কথা বললাম, কত স্মৃতিচারণ করলাম
শুধুই তাকিয়ে আছ নিস্পলক দৃষ্টি।
আমি তোমার মুখশ্রী পানে নির্বাক দৃষ্টিতে চেয়ে আছি
আর হৃদয়ে জমে থাকা এত বছরের কষ্ট
অশ্রু হয়ে চোখ বেয়ে বেয়ে পড়তে আরাম্ভ করল
আজ আমার কোন বাধা অশ্রু মানছে না।

আমি কেন কবিতা লিখি
=============

তোমার জন্যই আজ আমি কবি
তোমার জন্যই আমি লিখি কবিতা
তোমার জন্যই আজ লোকে বলে কবি
তোমার জন্যই কেউ কেউ বলে এটা পাগলামি।
তবুও আমি কবিতা লিখছি,
লিখবো কবিতা।

তোমার রেখে যাওয়া স্মৃতিগুলো…..
আমার এক একটি কবিতার শিরোনাম
আমার কবিতার এক একটি উপমা
আমার কবিতার এক একটি অলংকার।
সেজন্যই আমি কবিতা লিখছি,
লিখবো কবিতা।

তোমার হাতে লেখা পুরানো পত্রগুলো…………
আজ আমার কবিতার উৎস্য, প্রেরণা
আজ আমার কবিতার মহান ভাবনা
আজ আমার কবিতার অভিনব সৃজন।
আমার খেয়ালে কবিতা সম্পাদন করছি,
লিখছি কবিতা।

তোমার দেয়া ব্যথাগুলো ………..
আমার কবিতার কথা, আমার কবিতার কাব্য
আমার কবিতার গল্প, আমার কবিতার ছন্দ
আমার কবিতার ভাষা, কবিতায় শব্দের গাঁথুনি।
তাই তো আমি কবিতা লিখছি,
লিখবো কবিতা।

তোমার দেয়া আঘাতগুলো …………..
আমার কবিতার কাব্য কাহিনী
আমার কবিতার সাহিত্য রস
আমার কবিতার পান্ডুলিপি।
অতঃপর প্রকাশ পাচ্ছে কবিতার বই,
অসংখ্য কবিতা।

তোমার দেয়া কষ্টগুলো ……………..
আমার কবি মনের কবিসত্তা
আমার কবি সভার আলোচনা
আমার কবি সন্ধ্যার অনুষ্ঠানমালা।
কবির ‘কবিতা মঞ্চে’ আবৃত্তি করছি,
তোমার কবিতা।

অবশেষে তোমার চলে যাওয়া
নয় বিপর্যয়, আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সফলতা।
———–*****————-


বাংলাদেশ সময়: ১২:২৭:১৩ পিএম | ৮৯ বার পঠিত


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

পুরনো খবর দেখতে:



---

আরো পড়ুন...