বেকারত্ব বাড়ছে
দশমিনায় পোল্ট্রি খামারগুলো ধ্বংসের পথে
হোমপেজ » অর্থ-বাণিজ্য » দশমিনায় পোল্ট্রি খামারগুলো ধ্বংসের পথে


শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

এই ছবিটি প্রতীকী

দশমিনা (পটুয়াখালী) সাগরকন্যা প্রতিনিধি ॥
ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা ও খাবারের মূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুতের লোডশেডিংসহ বিভিন্ন কারণে উপকূলীয় পটুয়াখালীর দশমিনায় সম্ভাবনাময় পোল্ট্রি খামার ধ্বংসের পথে। অপরদিকে পরিশ্রম নির্ভর পোল্ট্রি খামার গড়তে ব্যাংক ঋণের সুব্যবস্থা ও সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ায় সম্ভাবনা থাকছে অধরা। ফলে কর্মহীন থাকছে বেকার যুবকরা।
সরেজমিনে কথা হয় উপজেলার নিজাবাদ গ্রামের পোল্ট্রি খামারি মোঃ শাহআলম খানের সাথে, তিনি জানায়, আফতাব কোম্পানির ৩’শ ব্রয়লার রয়েছে খামারে। বাচ্চা থেকে বিক্রি উপযুক্ত প্রায় দেড় কিলোগ্রাম মাংসে আনতে খরচ হয় প্রায় ১৬৫ টাকা। প্রতি কিলোগ্রাম ব্রয়লারের প্রাথমিক বাজার মূল্য আসে ১২০ টাকা। পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, প্রতি’শ বাচ্চার মধ্যে বিভিন্ন ধাপে ৭-১০টি মারা যায়। মৃত্যু ব্রয়লার খামারিদের জন্য লোকসান বয়ে আনে।
তিনি আরও জানান, শীতের তীব্রতা থেকে ব্রয়লারের বাচ্চা রক্ষার্থে হিটার এয়ার হিটার ব্যবহার ছাড়াও বাল্ব জ্বালিয়ে তাপ ধরে রাখতে হয় লিটারে। বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং মৃত্যু হার বাড়ায়। গরমেও ঠিক একই সমস্যা, প্রচন্ড তাপে ফ্যান চালিয়ে রাখা দরকার হয় ওই সময়। উপজেলা সদরের রাব্বী পোল্ট্রি খামারের মালিক মোঃ নাসির সিকদার জানায়, তার ফার্মে ভিআইপি, নারিশ, কাজী, এসএসক্লাবসি, হারবাল, প্যারাগসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানির ব্রয়লার বাচ্চা পালন করেছেন। এসব কোম্পানির মধ্যে এসএসক্লাবসি ও কাজী কোম্পানীর বচ্চা ছাড়া অন্যসব গুলোয় গুণগতমানে ঘাটতি রয়েছে।
অনুন্নত বাচ্চা দিয়ে খামার করায় খামারি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন প্যাদা প্রায় ১০ বছরের ব্যবসা লোকসানের মুখে গুটিয়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, কোম্পানীর বদনাম করছিনা, হয়ত সরবরাহকারী কর্তৃক উন্নত বাচ্চার সাথে মিশ্রণ দেয়া হতে পারে। লোকসানের জন্য পুজিঁ হারিয়ে ও ব্যাংক লোনের তদবিরে বর্থ্যতায় ব্যবসায় নামতে পারছি না।
আফতাব কোম্পানির দশমিনা উপজেলার ডিলার মোঃ ফিরোজ সাগরকন্যাকে বলেন, প্রতি বছরে বাচ্চার মূল্য বৃদ্ধির সাথে তাল রেখে ফিডের মূল্য বাড়ছে। লোকসানের মুখে ২৫টি খামারের মধ্যে ১০টি বন্ধ হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ইন্দ্রোজিৎ মন্ডল বলেন, দশমিনার আবহাওয়া পোল্ট্রি খামারের জন্য উৎকৃষ্ট। সস্তায় শ্রম পাওয়া ও বিস্তর চরাঞ্চলসহ খালি জায়গা পোল্ট্রি শিল্প গড়াতে সম্ভাবনার হাতছানি রয়েছে। ভ্যাকসিনসহ বিভিন্ন পরামর্শ ছাড়াও স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে খামারিদের। এ ধরণের ব্যবসায় বেকারত্ব হ্রাস হবে বলে আশা করছি। এ বিষয় উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শামীম আহাম্মেদ খান বলেন, যুবকদের বেকারত্ব দূরীকরণে পোল্টি খামার যুতসই ব্যবসা। এক একটি খামার গড়ে ৫ জন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান করতে সক্ষম। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মা ও শিশু  বিশেষাজ্ঞ ডাঃ জাকির হোসেন জানায়, ব্রয়লারের মাংসে চর্বি কম ও শতকরা ৬০ভাগ আমিষ থাকায় প্রসূতি মা ও বাড়ন্ত শিশুসহ হৃদ রোগীদের উত্তম খাদ্য। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দশমিনায় কর্মক্ষম প্রায় ১৫ হাজার বেকার যুবক রয়েছে। ছোট-বড় ৩ হাজার ফার্ম সৃষ্টি বেকারত্ব দূরীকরণে সক্ষম। উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী তোফায়েল হোসেন জানায়, সারা দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। পোল্ট্রি খামারিদের পূঁজিসংকট মোকাবেলায় ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা থাকলে ভাল হতো। তবে বাড়তি গ্রাহকের চাহিদা বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় অন্তরায়।

এনইউবি/এনবি


বাংলাদেশ সময়: ০৫:৩১:৫৮ পিএম | ৫৮ বার পঠিত


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

পুরনো খবর দেখতে:



---

আরো পড়ুন...