১৭ বছরেও খুনিরা শণাক্ত হয়নি
কলাপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মনির হত্যা মামলা পুনরুজ্জীবিত করার দাবি
হোমপেজ » কলাপাড়া উপজেলা » কলাপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মনির হত্যা মামলা পুনরুজ্জীবিত করার দাবি


বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মনির

মেজবাহউদ্দিন মাননু, সাগরকন্যা রিপোর্ট ॥
কলাপাড়ার লতাচাপলী ইউনিয়নের আলীপুরে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মনির (১৮) হত্যারহস্য ১৭ বছরেও উদঘাটন হয়নি। নৃশংস এই হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি ২০০২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পটুয়াখালীর ডিবি পুলিশ চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। মামলাটি মূলতবি করা হয়েছে। এরপর মনিরের পরিবার থেকে এ নিয়ে কেউ আর ঘাটাঘাটি করেনি। প্রভাবশালী মহল আর পুলিশের (ডিবি) ভূমিকায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা নিরাপত্তার কথা ভেবে চুপসে গেছেন বলে তাদের দাবি।
২০০০ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক আটটার সময় আলীপুর মৎসবন্দর থেকে মনিরকে ডেকে নেয় একটি চক্র। পরদিন ২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আলীপুর বাজারের পুর্বদিকে বিলে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মুগুর দিয়ে পিটিয়ে মনিরের মুখমন্ডল থেতলে দেয়া হয়। চোখ বের হয়ে যায়। পুলিশের এসআই মাসুদ লাশটি উদ্ধার করেছিল।
লাশ উদ্ধারের সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই ফুট লম্বা একটি কাঠের মুগুর, মনিরের একটি দাঁত, রক্তমাখা মাটি উদ্ধার করে। তখন ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের হয়। পুলিশ পর্যায়ক্রমে সাত আসামিকে গ্রেফতার করে। এমনকি দুই আসামির কাছ থেকে রক্তমাখা পাঁচ শ’ ও এক শ’ টাকার কয়েকখানা নোট উদ্ধার করে।
মনির আলীপুরে পানের দোকান করত। এ জঘন্যতম হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে আলীপুর-মহিপুর ও কুয়াকাটায় তখন প্রচন্ড বিক্ষোভ হয়। সাতদিন সকল দোকানপাটে কালো পতাকা উত্তোলন করেন ব্যবসায়ীরা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বদল হয়েছে নয় জন। সবশেষ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন ডিবি পুলিশের তৎকালীন এসআই মোসলেহ উদ্দিন। তিনি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, খুনের ঘটনা সত্য। পুলিশি কৌশলে হত্যারহস্য উদঘাটন করা যায়নি। ভবিষ্যতে উদঘাটনের সম্ভাবনা কম থাকায় মামলাটি মূলতবি রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পুলিশ শুধু মনিরের হত্যাকান্ডের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই ছিল সচেষ্ট। এক এক করে নয় জন তদন্ত কর্মকর্তা বদল হয়েছে। কেউ তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন নি ওই রাতে যেখানে মনিরের লাশ পাওয়া যায় তার পাশের একটি ঝুপড়ি ঘরে পিকনিক চলছিল। কারা পিকনিক করছিল, তাদের কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। সংসারের যোগান দেয়া সন্তান খুন হওয়ার পরে বার্ধক্যের ভারে আরও ন্যুয়ে পড়েন বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ছত্তার মুন্সি। ছেলের বিচার না পেয়ে কিংবা খুনিদের গ্রেফতার তো দূরের কথা শণাক্ত না হওয়ায় ধুঁকে ধুঁকে ইহকাল ছেড়েছেন তিনি। মনিরের বৃদ্ধা মা লাইলি বেগমও সন্তানের খুনিদের বিচার না পেয়েই দুনিয়া ছেড়েছেন। কেউ আর ঘাটেনি মনির হতারহস্য। তবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কলাপাড়া কমান্ডের সদস্য ও মুক্তযুদ্ধকালীন কলাপাড়ার কমান্ডার হাবিবুল্লাহ রানা ফের এ হত্যাকান্ডের নতুন করে তদন্তের দাবি করেছেন। তিনি হত্যারহস্য উদঘাটন করে জড়িতের বিচারের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন।

এমইউএম/এনবি


বাংলাদেশ সময়: ০৬:৫৯:০০ পিএম | ২৩৯ বার পঠিত


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

পুরনো খবর দেখতে:



---

আরো পড়ুন...