যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি
রামনাবাদপাড়ে ক্ষতিপুরণ নির্ধারণে অনিয়মের অভিযোগ
হোমপেজ » পায়রা বন্দর » রামনাবাদপাড়ে ক্ষতিপুরণ নির্ধারণে অনিয়মের অভিযোগ


রবিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০১৮

এই ছবিটি প্রতীকী

মেজবাহউদ্দিন মাননু, সাগরকন্যা রিপোর্ট ॥
রামনাবাদপাড়ের জনপদে এখন চলছে বিদায়ের সুর। দীর্ঘ শত বছরের বাসীন্দারা তাদের ঘরবাড়ি বসতভিটে ছেড়ে যাওয়ার পালা। সরকারি উন্নয়ন পায়রাবন্দরের কর্মের জন্য এসব জেলে ও কৃষক পরিবার তাদের পুর্বপুরুষের ভেটেমাটিসহ সব ছেড়ে যাওয়ার দুঃখ ভুলতে পারছেন না। তারপরও তারা সরকারের উন্নয়নের স্বার্থে সব ছেড়ে দিচ্ছেন। কিন্তু তাদের ঘরবাড়ির ক্ষতিপুরনের নোটিশ পেয়ে কেউবা হাসছেন কেউবা কান্না জুড়ে দিয়েছেন। ক্ষতিপুরণ নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে অতিসাধারণ এ মানুষের রয়েছে এন্তার অভিযোগ। এক শ্রেণির দালাল নিয়ে এই প্রক্রিয়া করায় গণপূর্তবিভাগ এবং বনবিভাগের নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। দেশ স্বাধীনের পরে এসব মানুষের শতকরা ৭০ জনের বেশি ভোটার আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে আসছেন। আর সেই আবেগেই বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কাজে সহায়তার জন্য একের পর এক বাড়িঘর থেকে শুরু করে কৃষি জমি সব ছেড়ে দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও রয়েছে এসব মানুষ যেন তাদের ক্ষতিপুরনের ন্যায্যতা পায়। এমনকি বিশেষ প্রণোদনা দেয়ারও নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা পুকুর পুকুরের মাছসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর ক্ষতিপুরন নির্ধারন নিয়ে একটি দালাল চক্রের যোগসাজশে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যার দায়ভার সরকারের কাঁধে এখন নির্বাচনী নেতিবাচক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে শুরু করেছে।
অভিযোগ রয়েছে যারা নির্দিষ্ট দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতে পেরেছেন তাঁদের টাকা অনেক বাড়িয়ে এওয়ার্ড ( ক্ষতিপুরন নোটিশ) দেয়া হয়েছে। আর যারা দালাল ধরতে পারেননি তাঁদেরকে করা হয়েছে বঞ্চিত। লালুয়া ইউনিয়নের এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সেখানকার জনপ্রতিনিধি থেকে চিহ্নিত একটি চক্রের নাম উঠে এসেছে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নির্দিষ্ট নেতাদের নিয়ে একটি দালালদল গঠণ করা হয়েছে। আর এর সঙ্গে কলাপাড়ায় কর্মরত বনবিভাগের এক কর্মী এবং গণপূর্ত বিভাগের লোকজন সরাসরি জড়ি রয়েছে। বর্তমানে লালুয়ার নয়াকাটা ও বানাতি মৌজায় এই ক্ষতিপুরনের নোটিশ বিতরণ প্রক্রিয়া চলছে। অন্তত সাড়ে আট শ’ জনকে এই ক্ষতিপুরনের নোটিশ বিলি করা হবে। যেখানে কয়েক কোটি টাকা দালালরা হাতিয়ে নেয়ার একটি ফাঁদ তৈরি করেছে। এক্ষেত্রে আগেভাগেই যে প্রকৃত অর্থে তিন লাখ টাকা পাবেন। তাকে ক্ষতিপুরন ধার্য করা হয়েছে এক লাখ বেধি। অর্ধেক টাকা ভাগাভাগির চুক্তিতে এমনটা করার অভিযোগ এখন গ্রামের সর্বত্র শোনা যায়। ক্ষতিপুরন নোটিশ নম্বর ১৭৮৬। কামাল হাওলাদার। চৌধুরীপাড়া গ্রামে বাড়ি। প্রসেস নম্বর ৮৭৯। এলএ কেস নম্বর ১৪/২০১৫-২০১৬। তাকে দেয়া নোটিশে ঘরসহ অন্যান্য অবকাঠামো, গাছপালা ও সৌরবিদ্যুত এর ক্ষতিপুরণ বাবদ তাঁর জন্য চার লাখ ৯৪ হাজার ৪৮৫ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা রয়েছে। কামালের দাবি একই ধরনের ঘর চৌধুরীপাড়া গ্রামে আর একটি থাকতে পারে। তারে ক্ষতিপুরন ধার্য করা হয়েছে ১১ লক্ষাধিক টাকা। অন্য একজনকে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্ধেক খড়ের অর্ধেক টিনের তাকেও দশ লাখ টাকা ধার্য করা হয়েছে। হাসনাপাড়া বড় পাঁচ নং গ্রামের সুমন তালুকদার জানান, তার বাড়িতে প্রাচীন ৭০টি গাছ রয়েছে। তারই দাম এখন তিন লাখ টাকা। একটি চৌচালা টিনের ঘর, পুকুর রয়েছে। রান্নাঘর আছে। তাকে সাত লাখ ৩০ হাজার টাকার নোটিশ দেয়া হয়েছে। অথচ তাদের পাশের একজনকে ২১ লাখ টাকা নির্ধারন করে নোটিশ দেয়া হয়েছে। এমনসব অসংখ্য অসংগতির অভিযোগ এখন লালুয়ার ওই দুইটি মৌজায় বিরাজমান। বঞ্চিতরা নোটিশ পেয়ে ফ্যাকাশে, বিবর্ণ মুখে চোখের কোনের অশ্রু ঝরাচ্ছে। আর বাড়তি পাওয়া লোকজন হাসিমুখে দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। কলাপাড়া বনবিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত মোঃ আবুল কালাম বলেন, ‘ কোন ধরনের অসংগতি করা হয়নি। যার গাছ যেভাবে দাম হওয়া উচিৎ সেভাবেই নির্ধারন করা হয়েছে।’ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তানভীর রহমান জানান কেউ সুনির্দিষ্টভাবে কোন অভিযোগ দিলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
লালুয়ার ক্ষতিপুরনের টাকা তোলার জন্য আবার একটি নির্দিষ্ট দালাল রয়েছে। শহরে রয়েছে এক নির্দিষ্ট ভেন্ডারের ঝিকঝাক অফিস। এখানে কমিশনের টাকা জমা হয়। অলিখিত ক্লিয়ারেন্স দেয় সরকার সমর্থক জনপ্রতিনিধি। তারপরে কাগজপত্রের ফাইলের গতি বাড়ে। সাধারণ মানুষ ভয়ে জিম্মিদশায় আটকে উপায় না পেয়ে দালালদের টাকা দিতে বাধ্য হয়। নইলে ফাইল আটকে থাকছে। কিংবা একজন ভুয়া ওয়ারিশ বানিয়ে আপত্তি দেয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষতিপুরনের টাকা তোলার স্বপ্ন-স্বাদ মিটিয়ে দেয়া হয়। এমনসব মধ্যস্বত্তভোগীরা সাধারন মানুষকে জিম্মি করে কোটিপতি বনে গেলেও ক্ষীতগ্রস্ত হচ্ছে প্রকৃত জমি কিংবা বাড়িঘরের মালিকরা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কবলে পড়ছে আওয়ামী লীগের আগামি দিনের জনসমর্থন। যেন ১২ টা বাজানোর সকল প্রক্রিয়া এই চক্র করতে দ্বিধা করছে না। জনশ্রুতি রয়েছে কয়েকটি ইউনিয়নে এখন কোন ধরনের পরিচয়পত্রসহ ওয়ারিশ সনদ নিতে পর্যন্ত মোটা অংক গুনতে হয়। নিজের বাড়িঘর তুলতে চাঁদা দিতে হয়। এরা দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে এসব অপকর্ম করেছে। তৃণমূলে এদের অবস্থান না থাকলেও দলীয় প্রতীকে কেউ কেউ নির্বাচিত হয়ে এমনসব অপকর্ম করে দলটির সর্বনাশ বয়ে আনছেন। সাধরন এসব মানুষ তাদের ন্যায্যতা প্রাপ্তির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এনইউবি/এনবি


বাংলাদেশ সময়: ০৭:১০:১৫ পিএম | ৭০ বার পঠিত


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

পুরনো খবর দেখতে:



---

আরো পড়ুন...