সরকারি ব্যবস্থাপনার বদলে দালালের মাধ্যমেই বিদেশগামী কর্মী বেশি যাচ্ছে
হোমপেজ » প্রবাস » সরকারি ব্যবস্থাপনার বদলে দালালের মাধ্যমেই বিদেশগামী কর্মী বেশি যাচ্ছে


সোমবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৭

প্রতীকী চিত্র

সাগরকন্যা ডেস্ক ॥
এদেশের বিদেশগামী কর্মীরা সরকারি ব্যবস্থাপনার বদলে দালালের ওপরই বেশি নির্ভরশীল। বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হওয়া মোট শ্রমিকের ৮০ দশমিক ৬ শতাংশই যাচ্ছেন দালাল এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে। তার মধ্যে ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ যাচ্ছেন দালালের মাধ্যমে আর ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ যাচ্ছেন ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে। আর দেশের প্রায় ১ হাজার ৩০০ জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান অথবা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে কাজ নিয়ে যাচ্ছেন ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবাসী এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন মোট অভিবাসনপ্রত্যাশীর মাত্র ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এদেশ থেকে অভিবাসী হওয়া মানুষের ৫১ শতাংশই দালালের মাধ্যমে বিদেশে গেছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশফেরত প্রবাসীদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে একটি গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছে আইএলও। প্রতিবেদনটি তৈরি করতে মোট ১ হাজার ২০০ জন প্রবাসী বাংলাদেশীর সাক্ষাৎকার নেয় আইএলও। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থানরত আরো ৮৫ জন বিদেশফেরত বাংলাদেশীর সঙ্গে বিস্তারিত আলাপচারিতায় তথ্য সংগ্রহ করেন আইএলওর গবেষকরা। অভিবাসন প্রক্রিয়ায় দালালদের সম্পৃক্ততার পেছনে বিদেশগামীদের দায় রয়েছে। কারণ সেক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলোর নজরদারির অভাব রয়েছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক ভিসায় বিদেশ যেতে মাথাপিছু ব্যয় ৪ থেকে ১০ লাখ টাকা। কিন্তু তার প্রায় তিন-চতুর্থাংশই যায় মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের পকেটে। আবার দালালদের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে অবৈধ অভিবাসন। ওসব রুখতে অভিবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে অবৈধভাবে সম্পৃক্ত মধ্যস্বত্বভোগী বিলোপের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সেজন্য নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর আওতায় সাব-এজেন্ট নিয়োগ দিতে চায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাসে আইএলওর সহায়তায় ওয়ার্ক ইন ফ্রিডম (ডব্লিউআইএফ) নামক একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে, যা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার; জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস; জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করবে। ফলে বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মী মধ্যস্বত্বভোগীর সাহায্য ছাড়াই সরাসরি বিদেশে গমনসংক্রান্ত যেকোনো সেবা সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন। পাশাপাশি অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ১৯ ধারা অনুযায়ী, কর্মী নিবন্ধন ও বাছাই এবং ডাটাবেজ নিয়মিত হালনাগাদ থাকলে মধ্যস্বত্বভোগীর অস্তিত্ব থাকবে না।

সূত্র আরো জানায়, বাংলাদেশী শ্রমিকদের বিদেশগমন প্রতি বছরই বাড়ছে। ২০১৫ সালে বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৮৮১ বাংলাদেশী বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমালেও ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন। আর চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে বিভিন্ন দেশে কাজ নিয়ে গেছেন ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৭৭৩ জন বাংলাদেশী। বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দেশভেদে আরোপিত সার্ভিস চার্জ ও অভিবাসন ব্যয়সীমা বেঁধে দিয়ে গত ১৪ জুন একটি আদেশ জারি করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। আদেশ অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে কর্মী গমনে ব্যয় হবে জনপ্রতি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দেশটির কৃষি খাতে কর্মী অভিবাসনের ব্যয় নির্ধারণ হয়েছে জনপ্রতি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তাছাড়া লিবিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৮০ টাকা, বাহরাইনে ৯৭ হাজার ৭৮০, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১ লাখ ৭ হাজার ৭৮০, কুয়েতে ১ লাখ ৬ হাজার ৭৮০, ওমানে ১ লাখ ৭৮০, ইরাকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৪০, কাতারে ১ লাখ ৭৮০, জর্ডানে ১ লাখ ২ হাজার ৭৮০, মিসরে ১ লাখ ২০ হাজার ৮০, রাশিয়ায় ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৪০, মালদ্বীপে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৮০, ব্রুনাই দারুস সালামে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৮০ ও লেবাননে ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৮০ টাকা অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দালালদের রুখতে বিদেশগামী কর্মীর কাছ থেকে সার্ভিস চার্জসহ পুরো অর্থই চেক, ব্যাংক ড্রাফট অথবা পে-অর্ডারের মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্সির অফিশিয়াল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ সময় কর্মীকে প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ দিতেও বলা হয়েছে।
এদিকে সাব-এজেন্ট প্রসঙ্গে জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সভাপতি বেনজীর আহমেদ জানান, এজেন্সির মালিকরা সাব-এজেন্ট দিতে ভয় পান। কারণ এদের প্রতারণার দায় তারা নিজেদের কাঁধে নিতে চান না। আবার প্রতারিতরাও আইনের আশ্রয় নেন না। তাতে প্রতারকদের বিচারের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ে। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সরাসরি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

অন্যদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম জানান, অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অবৈধভাবে সম্পৃক্ত দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগী দীর্ঘদিনের সমস্যা। দালাল প্রথা বিলুপ্ত করার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।

এফএন/কেএস


বাংলাদেশ সময়: ০৮:৪৩:৫০ এএম | ১৯৮ বার পঠিত


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

পুরনো খবর দেখতে:



---

আরো পড়ুন...