বাংলাদেশে উন্নয়ন কর্মকান্ড বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ডেনমার্ক: রাষ্ট্রদূত
হোমপেজ » জাতীয় » বাংলাদেশে উন্নয়ন কর্মকান্ড বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ডেনমার্ক: রাষ্ট্রদূত


বুধবার, ১১ জানুয়ারি ২০১৭

বাংলাদেশে উন্নয়ন কর্মকান্ড বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ডেনমার্ক: রাষ্ট্রদূত

সাগরকন্যা ঢাকা অফিস॥

গুলশানের সন্ত্রাসী হামলা বাংলাদেশে উন্নয়ন কর্মকান্ড থেকে ডেনমার্ককে সরাতে পারেনি জানিয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূত মিকায়েল হেমনিতি উইন্টার বলেছেন, কার্যক্রম আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত বলেন, এটা বাংলাদেশের জন্য বিশেষ কিছু নয়। এমনকি আমার নিজের দেশেও এটা ঘটছে। এটা দুঃখজনক। তবে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

১ জুলাই গুলশানের একটি ক্যাফেতে জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২২ জন নিহত হওয়ার পর সেপ্টেম্বরে ঢাকায় আসেন উইন্টার, অক্টোবরে পরিচয়পত্র জমা দেন তিনি। ওই হামলার পর ডেনমার্কসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে তাদের নাগরিকদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। তবে উইন্টার বলছেন, এই হামলা তাদের উন্নয়ন কর্মকান্ডের ওপর প্রভাব ফেলতে পারেনি।

ঢাকায় আসার আগে থাইল্যান্ডে রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাড়তি প্রায় ছয় বছর দায়িত্ব পালন করা উইন্টারের ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম ও ইরাকে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলায় ডেনমার্কের কাজ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটা (গুলশান হামলা) আসলে কোনো প্রভাব ফেলছে না। আমাদের অধিকাংশ উন্নয়ন কর্মকান্ডই বাংলাদেশিদের দিয়ে করা হয়। তাই আমরা খুব স্বল্প সংখ্যক বিদেশি আছি।

বাংলাদেশ ঘুরে দেখতে বের হওয়া দরকার বলে কাজে কোনো প্রভাব ফেলা উচিত হবে না বলেও আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কূটনীতিক হিসেবে কাজ শুরু করার আগে কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয় ও কোপেনহেগেন বিজনেস স্কুলে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পড়িয়েছেন উইন্টার। সঙ্গীতপ্রেমী উইন্টার ভালোবাসেন গিটার বাজাতে, সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখেন তিনি। মটরসাইকেলের প্রতিও তার রয়েছে বিশেষ আগ্রহ। তার স্ত্রী রত্নাওয়াডে হেমনিতি উইন্টার থাই বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কর্মরত আন্তর্জাতিক এনজিও এশিয়ান ইনজুরি প্রিভেনশনের, থাইল্যান্ডের চেয়ারম্যান তিনি। নিরাপত্তা পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন আমি ও রত্নাওয়াডে দুজনই আরও বেশি কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হতে মুখিয়ে আছি। সবাই আমাদের খুব আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায়, বলেন রাষ্ট্রদূত।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই ঢাকা ও কোপেনহেগেনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইউরোপের যে সব দেশ প্রথম দিকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল তার মধ্যে ডেনমার্ক অন্যতম, ১৯৭২ সালে ঢাকায় দূতাবাস খোলে তারা। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে তিন বছর মেয়াদি স্ট্র্যাটেজিক সেক্টর কোঅপারেশন এবং পাঁচ বছর মেয়াদি ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন চুক্তি সইয়ের মধ্য দিয়ে এই সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী গেল বছর ডেনমার্ক সফর করেন। সে সময় দুই দেশ সবুজায়ন বাড়ানো, জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়।

ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত বলেন, ১৯৭১ সাল থেকেই আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। দারিদ্র্য দূরীকরণে (বাংলাদেশের) ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬১ জেলায় আমাদের কর্মসূচি রয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ডেনমার্ক পানি, স্যানিটেশন, কৃষি, মানবাধিকার ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। ডেনমার্কের বাজারে অস্ত্র ছাড়া সব পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পায় বাংলাদেশ। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যেও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। ডেনমার্কে মূলত তৈরি পোশাকই সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়। তবে এখন সেখানে ফার্মাসিউটিক্যালস, সিরামিক এবং চামড়াজাত পণ্যসহ অন্যান্য পণ্য রপ্তানির চেষ্টা চলছে।

পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহারে সবুজায়নে বিশেষায়িত জ্ঞানের জন্য বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃতি রয়েছে ডেনমার্কের। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ২০৫০ সাল নাগাদ পুরোপুরি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। আমরাই বিশ্বে একমাত্র দেশ যাদের উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উচ্চতর উৎপাদন হয়, কিন্তু জ্বালানি সাশ্রয়ী, বলেন রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশে বায়ু বিদ্যুৎ চালুর জন্য সরকারের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, ডেনিশদের কাজ শুধু মুনাফা করা বা অর্থ উপার্জন নয়, তারা বাংলাদেশের মঙ্গলের জন্যও বিনিয়োগ করে এবং কর্মকান্ড চালায়। বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দারিদ্র্য বিমোচনে কর্মরত এনজিওগুলোতেও অর্থায়ন করে ডেনমার্ক।


বাংলাদেশ সময়: ০৮:২৪:১৮ পিএম | ২৩১ বার পঠিত


পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

পুরনো খবর দেখতে:



---

আরো পড়ুন...