গুলিস্তানে হকার বসবে শুধু সন্ধ্যার পর
হোমপেজ » পাঁচ মিশালি » গুলিস্তানে হকার বসবে শুধু সন্ধ্যার পর


বুধবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৭

গুলিস্তানে হকার বসবে শুধু সন্ধ্যার পর

সাগরকন্যা ঢাকা অফিস॥

রাজধানীর গুলিস্তান ও এর আশপাশের এলাকার ফুটপাতে দিনের বেলা কোনো হকার বসতে পারবে না। এই সিদ্ধান্ত আগামী রবিবার (১৫ জানুয়ারী) থেকে কার্যকর করার কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন।

বুধবার (১১ জানুয়ারী) দুপুরে নগরভবনে গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকা হকারমুক্ত করতে হকার নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান তিনি। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে হকাররা গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকায় বসতে পারবেন। আর কর্মদিবসে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর তারা এসব সড়কে বসতে পারবেন বলেও জানান ঢাকা দক্ষিণের মেয়র। এছাড়া তালিকাভুক্ত হকাররা যদি আবেদন করে তাহলে তাদের বিদেশ পাঠানোসহ বিকল্প কর্মসংস্থানে সহযোগিতা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, সাপ্তাহিক কর্মদিবসে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার আগে আমরা কাউকেই ফুটপাত ও সড়কে বসতে দিব না। সড়কে যানবাহন ও পথচারী চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, হকারমুক্ত কর্মসূচির আওতায় গুলিস্তান, মতিঝিল, পল্টন, জিরোপয়েন্ট, বায়তুল মোকাররম এলাকার ফুটপাত ও সড়ক থাকবে। আগামি রোববার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। এ ব্যাপারে আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করবেন। এ কাজে ঢাকা মহানগর পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

মেয়র বলেন, কেউ বিদেশ যেতে চাইলে সিটি করপোরেশনে আবেদনের ভিত্তিতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে সহায়তা পেতে সহযোগিতা করবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এ ছাড়া যেখানেই সুযোগ হবে তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। হকার নেতৃবৃন্দের অভিযোগের ভিত্তিতে মেয়র বলেন, লাইনম্যান নামে যারা টাকা তোলেন তারা আসলে চাঁদাবাজ। এই চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা হবে। আমাদের কাছে তালিকা আছে তালিকা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে ডিএমপি।

এদিকে, রাজধানীকে হকারমুক্ত করতে আগে তাদেরকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন হকার নেতারা। একই সঙ্গে হকারদের সিটি করপোরেশন থেকে আইডি কার্ড প্রদানেরও আহ্বান জানান তারা। সভায় হলিডে মার্কেটের বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেন হকার নেতারা। মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবদুল ওয়াহাব ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) মফিজ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ হকার ফেডারেশনের সভাপতি এম এ কাশেম, বাংলাদেশ ছিন্নমূল হকার লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন মজুমদার, জাতীয় হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি আরিফ চৌধুরী, বাংলাদেশ জাতীয় হকার্স লীগের সভাপতি নূরুল ইসলাম প্রমুখ। হকার নেতারা বলেন, রাস্তা থেকে হকারদের উচ্ছেদ করলে তারা কোথায় যাবেন? আগের তাদের পুনর্বাসন করুন, পরে উচ্ছেদ করুন।

বাংলাদেশ হকার্স ফেড়ারেশনের সভাপতি এম এ কাশেম বলেন, প্রতিটি ফুটপাতে একজন করে লাইনম্যান চাঁদাবাজ থাকেন। একটা ফুটপাতে ১০০ জন থাকলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করেন একজন লাইনম্যান নামধারী চাঁদাবাজ। এ লাইনম্যানকে নিয়ন্ত্রণ করেন অসাধু প্রশাসনের লোক ও অসাধু রাজনীতিবিদরা। চাঁদাবাজরা দোকান প্রতি দুই লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন। তিনি বলেন, হলিডে মার্কেট নয়, আমরা বিভিন্ন মার্কেট যেদিন বন্ধ থাকে, ওইদিন ওই এলাকায় বসতে চাই। আমাদের তালিকাভুক্ত হকারদের একটি পরিচয়পত্র দেওয়া হোক। আমরা নগর ভবনেই বন্ধের দিনে বসতে চাই। চাঁদা দিলে নগর ভবনকেই দেবো। এভাবে যেসব মার্কেট যেদিন বন্ধ থাকবে, সেদিন ওখানে হকারদের বসার ব্যবস্থা করে দিন। লাইনম্যানের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আমরা লাইনম্যান উঠিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু যেখানে বিনা পয়সায় ব্যবসা করার সুযোগ থাকে, সেখানে এ ধরনের অসাধু লোক তৈরি হবেই। তাই হকারদের একটা নীতিমালায় আনা দরকার। তাদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।

বাংলাদেশ জাতীয় হকার্স লীগের সভাপতি মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা মহানগরে ৮ থেকে ৯ লাখ হকার রয়েছেন। দক্ষিণে এ সংখ্যা ৫ থেকে ৬ লাখ। এখানে সবাই গরিব, নিরীহ। তাদের সামান্য আয়। আমরাও চাই, রাস্তা হকারমুক্ত থাকুক। তবে সরকারি যেসব জায়গা রয়েছে, সেখানে বিকল্প ব্যবস্থা করা হোক। আগে হকারদের পরিচয়পত্র দেওয়া হোক। তিনি বলেন, আজ হকারদের একটি জায়গায় বসতে এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকা দিতে হয়। তারা কারা? তাদের চিহ্নিত করুন। হকার উচ্ছেদ করা যাবে না। তারা কোথায় যাবেন? তারা মা-বাবা, ছেলে-মেয়ে নিয়ে ঢাকায় থাকেন।

জাতীয় হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি আরিফ চৌধুরী বলেন, হকারদের পুনর্বাসন করতে হবে। হলিডে মার্কেট নিয়ে হকারদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। হকাররা হলিডে মার্কেটে গেলে ফুটপাতে বসতে পারবেন কি-না? তিনি বলেন, হকারদের পরিকল্পনামাফিক বসাতে হবে। এর জন্য একটি নীতিমালা থাকা দরকার। হকারদের কার্ড দিতে হবে। তারা সিটি করপোরেশন থেকে কার্ড নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বসবেন। এজন্য আইন করতে হবে। যদি আইন তৈরি করা না যায়, তাহলে দিন দিন হকার বাড়বে। মতবিনিময় সভায় হকার নেতারা বলেন, সরকার বা সিটি করপোরেশন সপ্তাহে একদিন নির্দিষ্ট ৫টি স্থানে হলিডে মার্কেট চালু করেছে। এটি আমাদের জন্য ইতিবাচক। কিন্তু সপ্তাহের বাকি ৬টি দিন আমরা কি করবো? কি খাবো? হকারদের তো পরিবার রয়েছে। এজন্য তাদেরকে পুনর্বাসন করতে হবে।


বাংলাদেশ সময়: ০৩:৫১:৩০ পিএম | ২৭৮ বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

---

আরো পড়ুন...