বিদেশী নাগরিক কর্মরত প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতকরণ অভিযানে এনবিআর
হোমপেজ » জাতীয় » বিদেশী নাগরিক কর্মরত প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতকরণ অভিযানে এনবিআর


বুধবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৭

বিদেশী নাগরিক কর্মরত প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতকরণ অভিযানে এনবিআর

সাগরকন্যা ঢাকা অফিস॥

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিশেষ টাস্কফোর্স এদেশে যেসব প্রতিষ্ঠানে বিদেশী নাগরিক কর্মরত রয়েছে চিহ্নিত করতে অভিযানে নেমেছে। মূলত কর ফাঁকিবাজ বিদেশী নাগরিকতের ধরতেই এই সাঁড়াশি অভিযানের উদ্যোগ। প্রাথমিকভাবে ঢাকার বিভিন্ন কর অঞ্চলের ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওসব প্রতিষ্ঠানে উচ্চ বেতনে অনেক বিদেশী কাজ করলেও তারা সরকারকে কর দিচ্ছে না। এখন ওসব প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন অভিযান চালানো হবে। তারপর পর্যায়ক্রমে বিদেশী নাগরিক কমর্রর রয়েছে এমন সব প্রতিষ্ঠানকেই অভিযানের আওতায় আনা হবে। এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকার বিগত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে বিদেশীদের করের আওতায় আনতে আয়কর অধ্যাদেশে নতুন ধারা সংযোজন করে। ১৬৫সি ধারায় বলা হয়েছে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া বিদেশীদের নিয়োগ দেয়া হলে কর্তৃপক্ষকে সর্বনি¤œ ৩ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদ- বা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ে দ-িত করার বিধান চালু করা হলো। এদেশে বিপুলসংখ্যক বিদেশী নাগরিক অবৈধভাবে কর্মরত রয়েছে। এমনকি বর্তমানে এদেশে কতো বিদেশী অবস্থান করছেন তার সঠিক পরিসংখ্যান সরকারি কোনো সংস্থার কাছেই নেই। অধিকাংশ বিদেশী নাগরিকই বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে ট্যুরিস্ট ভিসা ব্যবহার করে। তারপর বিভিন্ন কাজের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ছে। আবার বিভিন্ন কোম্পানির ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে আসা, বিশেষ করে এনজিও, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রকৌশল, চিকিৎসা, গার্মেন্ট, মার্চেন্ডাইজিং, পরামর্শকসহ বিভিন্ন পদে কর্মরত বিদেশী নাগরিকদের বেতন-ভাতা গোপন রাখা হচ্ছে। মূলত কর ফাঁকি দিতেই এমন কৌশল অবলম্বন করছে দেশীয় নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি গোপন চুক্তি অনুযায়ী বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে মানি লন্ডারিংয়ের আশ্রয় নেয়া হচ্ছে। তাতে বিপুল পরিমাণ মুদ্রা পাচার হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রতি বছরই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে মুদ্রা পাচারের পরিমাণ। তাছাড়া অবৈধভাবে আসা বিদেশীরা মাদক চোরাচালান ও জাল মুদ্রা ব্যবসার মতো অপকর্মের সাথেও জড়িয়ে পড়ছে। যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। আবার অনেক বিদেশী নাগরিক অন অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে দেশে প্রবেশের পর ঠিকানা পরিবর্তন করে ফেলছে। ফলে তাদের খুঁজে বের করা যায় না।

সূত্র জানায়, মূলত বিদেশীরা সঠিকভাবে ট্যাক্স দিচ্ছেন কিনা তা খতিয়ে দেখতেই এনবিআরের বিশেষ টাস্কফোর্স। অভিযানে নেমেছে। কারণ এদেশেরই অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশী কর্মীদের কর ফাঁকি দিতে সহযোগিতা করছে। বেতন গোপন করে কর্মীদের হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করছে। যা আইনত দ-নীয়। ওই ধরনের প্রতিষ্ঠানকে আয়কর আইনের আওতায় জরিমানা করা হবে। তার আগে টাস্কফোর্স বাংলাদেশে আগত বিদেশীদের মনিটরিং করতে এন্ট্রি লেভেলের স্পন্সরের বিধান চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থাৎ কোনো বিদেশীকে কাজের জন্য বাংলাদেশে প্রবেশের আগে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিদের স্পন্সরকারী হিসেবে নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বরসহ বিস্তারিত উল্লেখ করার বিধান চালু করে। কিন্তু সরকারি অনেক সংস্থাই ওসব বিধান মানছে না।

সূত্র আরো জানায়, এনবিআরের টাস্কফোর্স বিশেষ অভিযান ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। আর তা চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশীদের এদেশে কাজ করার অনুমতিপত্র, প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপত্র, বেতনের অর্থ ও তা স্থানান্তরের পদ্ধতির অনুসন্ধান করা হবে। ওসব ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেবে টাস্কফোর্স।  বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশীদের কাছ থেকে সঠিকভাবে আয়কর আদায় করতেই গেলবছর এনবিআর এই বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। আর তার সদস্য হিসেবে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), পুলিশের এসবি, ডিজিএফআই, এনএসআই, বাংলাদেশ ব্যাংক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেপজা, পাসপোর্ট অধিদফতর, এনজিও ব্যুরো ও এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে। পরে কাজের সুবিধার্থে ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলভিত্তিক টাস্কফোর্সকে ভাগ করা হয়। ঢাকা অঞ্চলের টাস্কফোর্স ১২ সদস্য নিয়ে গঠিত। ওই টাস্কফোর্স বিদেশীদের ডাটাবেজ তৈরির কাজও করছে।

এদিকে টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গেলবছরের জুলাই থেকেই ৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও একটি স্থলবন্দরে আয়কর বুথ খুলেছে এনবিআর। ঢাকার হযরত শাহজালাল, চট্টগ্রামের শাহ আমানত, সিলেটের এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দরে আয়কর বুথে দায়িত্বে সহকারী কর কমিশনার পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পদায়ন করা হয়েছে। ওসব বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ত্যাগের আগে অবশ্যই বিদেশীদের আয়কর প্রত্যয়নপত্র দেখাতে হচ্ছে। প্রত্যয়নপত্র দেখাতে না পারলে বিদেশ গমনের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না।

অন্যদিকে টাস্কফোর্সেও একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশীদের প্রকৃত সংখ্যা বের করতে একটি ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে। যেখানে বিদেশী কর্মীর নাম, পাসপোর্ট নম্বর, কর্মস্থলের ঠিকানা, বাংলাদেশে বসবাসের স্থায়ী ঠিকানা, কাজের ধরন, বেতন-ভাতাদির তথ্য ও আয়কর পরিশোধের তথ্য উল্লেখ থাকবে। এখন পর্যন্ত বিদেশী নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ ও তথ্য ফরম পূরণের জন্য ঢাকার ২৮৬টি কোম্পানিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওসব কোম্পানিতে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে। সেক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহ ও অভিযানে নিরাপত্তার স্বার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করারও এনবিআরের চিন্তাভাবনা রয়েছে।


বাংলাদেশ সময়: ০৭:১৭:০৬ পিএম | ১৮৪ বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আরো পড়ুন...